মনসুকা খবর, নিউজ ডেক্স: জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ১৫ জন সাধারণ নাগরিক ও ১ জন সেনা নিহত এবং ৪৩ জন আহত হয়েছেন।
৮ মে ২০২৫ তারিখে পুঞ্চ ও তাংদারে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে। এটি ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রতিক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ঘটনায় ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক ও একজন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৪৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং হাসপাতালগুলো আহত লোকে লোকারণ্য। গোলাবর্ষণে স্কুল, হাসপাতাল ও বাজারের মতো জনবহুল এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতের দাবি, এই অভিযান ছিল সন্ত্রাসীদের পরিকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্যে এবং এর মাধ্যমে তারা পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বানচাল করেছে। ভারত আরও দাবি করে যে এই হামলায় ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ‘চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতীয় হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রে খবর, ভারতের হামলার মুখে পাকিস্তান তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। ফলস্বরূপ, তারা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ শুরু করে।
এই সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য এই পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর উদ্বেগের’ বিষয় বলে উল্লেখ করেছে। রাশিয়া ও তুরস্কও দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন এবং দ্রুত সংঘর্ষ থামানোর আশা প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২২ এপ্রিলের পেহেলগাম হামলা এই সংঘাতের মূল কারণ। অনন্তনাগের বৈসরান উপত্যকায় সেই হামলায় ২৮ জন পর্যটক ও সরকারি কর্মচারী নিহত হয়েছিলেন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তাইয়েবার সহযোগী গোষ্ঠী দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকে দায়ী করেছে, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই হামলার পর থেকেই নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে পাকিস্তান কুপওয়ারা, বারামুল্লা, নওশেরা ও আখনুরে গুলি চালালে ভারত তার জবাব দেয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের গোলাবর্ষণের ‘দ্রুত ও কার্যকর’ জবাব দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানের যেকোনো প্রকার আগ্রাসনের মোকাবিলায় প্রস্তুত। তারা আরও জানিয়েছে যে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ কোনো সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষজন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই নিজেদের বাঙ্কার সংস্কার করছেন এবং জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়রা যুদ্ধ চান না, তবে এমন পরিস্থিতিতে বারবার আক্রান্ত হওয়া তাদের জন্য অসহনীয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংঘাত দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে একটি বড় আকারের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
