মনসুকা খবর, নিউজ ডেক্স, ৯ মে: বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ভারতে বসবাসের পথ আরও প্রশস্ত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তাঁকে ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে এবং তিনি দেশের যে কোনও জায়গায় অবাধে যাতায়াত করতে পারেন। এই ঘোষণা এল বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের রাজ্যসভায় উত্থাপিত একটি প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে। তিনি তসলিমার কলকাতায় নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং শ্রী ভট্টাচার্যকে লিখিত জবাবে বলেন, “বর্তমান বিধি অনুযায়ী তসলিমা নাসরিনের ভারতের কোথাও যাতায়াতে কোনও বাধা নেই।” এই ঘোষণা তসলিমার দীর্ঘদিনের নির্বাসিত জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলল।
২০০৭ সালে ধর্মীয় সংগঠনগুলির বিক্ষোভ ও আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। এরপর তিনি জয়পুর, দিল্লি ও বিদেশে সময় কাটালেও কলকাতার প্রতি তাঁর টান কখনও কমেনি। গত ১৭ মার্চ রাজ্যসভার জিরো আওয়ারে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তসলিমা কলকাতাকে ভালোবাসেন। তিনি বাংলায় কথা বলতে, কবিতা লিখতে চান। উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে কলকাতায় ফেরানো হোক।” এই দাবি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীরা আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুললেও তসলিমা নিজে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “কলকাতা আমার প্রাণের শহর। শমীক ভট্টাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
তসলিমার লেখালেখি, বিশেষ করে ‘লজ্জা’ উপন্যাস, বাংলাদেশে বিতর্কের জন্ম দেয়। ১৯৯৪ সালে ফতোয়া ও হুমকির মুখে তিনি দেশ ছাড়েন। ভারতে আসার পর ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত কলকাতায় থাকলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপে তাঁকে চলে যেতে হয়। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন। গত বছর তাঁর রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপে অনুমতি মঞ্জুর হয়। এবার বিদেশ মন্ত্রকের চিঠি তাঁর কলকাতা ফেরার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করল।
তবে, তসলিমার কলকাতা প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের দায়িত্ব। এ বিষয়ে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।” কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সতর্কতার সুরে বলেন, “তসলিমার ফেরা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।” অন্যদিকে, তসলিমার সমর্থকরা মনে করেন, তাঁর ফেরা বাকস্বাধীনতার প্রতীক হবে।
তসলিমা নিজে বলেছেন, “বাংলায় লিখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ অপরিহার্য।” তবে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিতর্কে জড়ালেও তাঁর কলকাতা ফেরার আকাঙ্ক্ষা অটুট। বিদেশ মন্ত্রকের এই ঘোষণা কি তসলিমার দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটাবে? উত্তর মিলবে আগামী দিনে।
