মনসুকা খবর, শ্যামল রং, ৫ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জট দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি রায়কে ঘিরে ৪২৯৪৯ জনের চাকরি বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পূজোর আগে হাজার হাজার পরিবারের কাছে খারাপ খবর বয়ে আনতে পারে।
২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার (TET) মাধ্যমে ২০১৬ সালে ৪২৯৪৯ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আইনি লড়াই শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এই নিয়োগের প্যানেল বাতিল করে দেয়। এরপর আপিল করে সেই মামলা ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখান থেকে মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে ফেরত পাঠায় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।
প্রাথমিক ভাবে ৩২০০০ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ এসেছিল, কারণ তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু অনিয়ম খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৪২৯৪৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু গোটা নিয়োগ প্যানেলটি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, তাই ৩২০০০ জনের চাকরি বাতিল হলে বাকি ১০ হাজারেরও বেশি চাকরিও বাতিল হতে পারে। এর পেছনে যুক্তি হলো, যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে সেটি কিছু প্রার্থীর জন্য আলাদা হবে না, বরং গোটা প্যানেলকেই প্রভাবিত করবে।
আদালত এই মামলায় দুর্নীতির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নম্বর না থাকলেও চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত বারবার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে।
রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতিতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে চাকরিহারাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর সরকারের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ আদালত তার নিজস্ব নিয়মে চলছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস করতে রাজি নয়।
যেহেতু মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন, এবং পূজোর আগে চূড়ান্ত রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বহু পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। যদি আদালত ৪২৯৪৯ জনের নিয়োগ প্যানেল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পুজোর আগে এটি হাজার হাজার পরিবারের জন্য এক খারাপ খবর হবে। তবে অনেকে আশাবাদী যে, আদালত এমন একটি সমাধান বের করবে যেখানে নিরপরাধ প্রার্থীরা চাকরি ফিরে পাবেন।
এই মামলার চূড়ান্ত রায় নির্ভর করবে আদালতের ওপর। তবে এটি পরিষ্কার যে, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এখনও জারি রয়েছে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে আরও অনেক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
