লেখক : ভক্তিমান রবীন্দ্রনাথ ভক্তিশাস্ত্রী
এই পৃথিবী গ্রহের সৃষ্টি হয়েছে প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে এবং প্রকৃতির নিয়মেই সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীতে উদ্ভিজ বৃক্ষ, লতা, পাতা, গাছ-গাছালী, প্রাণীকুল, পশু, পক্ষী তার সাথে মানবকুল। প্রকৃতির নিয়ম তিনটি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়। সৃষ্টি হয়েছে, স্থিতি হয়েছে, লয় ও হবেই। এই লয় হবে মূলত কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ভূমিক্ষয়, ভূমিধস, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস এর সাথে মহামারী রোগের প্রকোপে পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীকূল শেষ হয়ে যাবে বিশেষ করে মানবকূল। এই মহামারী থেকে প্রাণীকূলের, বাঁচার কোন উপাই নেই। বর্তমানে আমাদের বিজ্ঞান যতই উন্নত হউক না কেন, এ থেকে রেহাই পাবে না কেউ। ইং-২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আর একশো বছরের মধ্যেই পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে যাবে মানব রূপধারী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীব। বিজ্ঞান যতই এগিয়ে থাকুক না কেন চরম বিপর্যযের হাত থেকে রেহাই মিলবে না। বিজ্ঞানী মহলের ধারণা মুলত দুটি বিষয়ের উপর। এক জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, দুই উন্নয়নের নামে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্ঘাত এবং তার জেরে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন এর আগে তুষার যুগের সময় পৃথিবী থেকে প্রাণীকুলের একটা বড় অংশের বিলুপ্তি ঘটেছিল। আমরা বিশেষ করে মানব অজান্তেই প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্ঘাতে চলে গিয়েছি তার ফলে শুধু মানুষই নয় তার সঙ্গে আরও অনেক প্রজাতির প্রাণীও বিলুপ্তির পথে চলে যাবে। জন বিস্ফোরণ যে বড় সমস্যা তার উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্গের রিপোটেও ২০০৮ এ বিশ্বের জন সংখ্যা আনুমানিক ৬০০ কোটি ২০২৫ মধ্যে যা ৮০০ কোটি ছাপিয়ে যাবে। ২০৩০ শে আনুমানিক ৮৫০ কোটি জনসংখ্যা হবে প্রাকৃতিক সম্পদ এই বিপুল জন সংখ্যার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে না। শেষের দিন আসবে একশ বছর পরে নয় তার আরও অনেক আগে। জন সংখ্যা বৃদ্ধি ও তৎসঙ্গত খাদ্য উৎপাদন হ্রাসের কারণে মানুষের অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি হবে। সৌর মণ্ডলের একমাত্র প্রাণময় গ্রহটি থেকে মানবকুল বিলুপ্ত হবার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার তথা প্রাণ রক্ষার কাজে যে সব উপায় ছিল তার প্রতি মানুষ অবহেলা করায় নির্বুদ্ধি তার জন্যই আজ এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। একেই বলে অতিবুদ্ধির গলায় দড়ি। হিমযুগের মতোই এখন পৃথিবী গ্রহটির সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ামণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও ক্লোরোফ্লোরো কার্বণের গ্রীণ হাউস গ্যাস অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় বেড়ে উষ্ণায়নের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে তাই গত কয়েক বছরে যেমন বহু প্রজাতির প্রাণী এই পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে তেমনি কয়েক বছরের মধ্যে মানুষের অস্তিত্বও বিলুপ্ত হবে এই রকমই বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অতএব হেসে নাও দুদিন বই তো নয়। ইং-২০১১ সালে এক ধর্মযাজক বলেছিলেন পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে ঘটবে প্রলয়ঙ্কর নানা ঘটনা আর তা তো শুরু হয়ে গিয়েছে। ইং-১৯৮৭ থেকে ১৯৯৭ সাল ১০ বছর বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন এর মূল কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ণ। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হল প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভারতের ভূজে ভূমিকম্প। জাপানে ভয়ঙ্কর সুনামি। মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প, এই ধরনের ঝড় বৃষ্টি ভূমিকম্প সবই প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু তার প্রভাব বড়ই মারাত্মক ব্যতিক্রমী অভূতপূর্ব, বহু প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয়েছে বহু প্রাণহানি হয়েছে প্রকৃতির এহেন ধংসলীলা সাম্প্রতিক অতীতে খুব একটা দেখা যায় না। ঘটনা গুলিকে পরপর সাজালে ব্যাপারটা একদম স্পষ্ট হয়ে যাবে এর সাথে মারণ রোগ প্লেগ, বসন্ত, কলেরা, করোনা সবেতেই প্রাণ হানি। আদিতে পৃথিবী জুড়ে এধরনেরই তাণ্ডব লীলা চলেছিল দীর্ঘদিন ধরে পুনরায় শুরু হয়েছে তাণ্ডব লীলা। জন জীবন বিপন্ন মৃত্যুর মিছিল। এ থেকেই প্রমাণ হয়ে যায় আবারও পৃথিবীতে প্রাণময় জীবের অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে আমাদের পৃথিবী। প্রশ্ন ধ্বংস হবে কী ভাবে? অনেক কিছুই হতে পারে ভূমিকম্প, বিরাট এলাকা জুড়ে ভূমিধ্বস, ভয়ঙ্কর রকমের সুনামি, দাবানল হয়তো এতটাই জলস্ফীতি ঘটবে ডুবে যাবে আস্ত একটা মহাদেশ, হতেপারে অনেক কিছুই। সম্ভবনা আছে নানারকমের ঘটনা কিন্তু কোনটা ঘটবে তা এখনই যা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। পৃথিবীর কয়েক লক্ষ কোটি মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মধ্যে অন্তত দুই শতাংশ মানুষ রয়ে যাবে। নাসার বিজ্ঞানীরা অতিসম্প্রতি সূর্যের যে ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন তাতেই ধরা পড়েছে এক বিশাল সৌর কলঙ্ক। এই সৌর কলঙ্কের প্রভাবে ঘটতে পারে পৃথিবীতে এক মহাপ্রলয়। সেই প্রলয়ের শিকার হতে পারে মানবকুল ও প্রাণীকূল। পরিসংখান বলছে পৃথিবী ধ্বংস হবে তার সুচনা ইং-১৯৯৫ সাল ২৪ অক্টোবর সকাল ৯টায় পূর্ণ সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। পশ্চিম বাংলায় অন্ধকার নেমে এসেছিল আরও অনেক দেশে দ্বিতীয় ২০০৯ সালে ২২ জুলাই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। ইং-২০০৪ সালে ২৬ ডিসেম্বর সুনামী ঝড় জলকম্প। ২০০৫ সালে সূর্যকলঙ্ক। ২০০৭ অমরনাথ শিবলিঙ্গ ২০০ কিউবিক পরিধি গ্রীণ হাউস গ্যাসে গলে গেল ১২ ফুট। ২০০৮ সালে চীনে ভয়াভয় ভূমিকম্প, দ্বিতীয় সুনামী, বিহারে বন্যা, উড়িষ্যায় বন্যা। ২০১০ বদ্রিনাথ ধামে মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি জনজীবন বিপন্ন। ২০১১ আমেরিকায় আইরিন ঝড় গতিবেগ ১৪০ কিমি, সিকিমে ভূমিকম্প ২০১২ থেকে ২০২৪ মধ্যে আরও অনেক কিছু ঘটে গেছে বিগত কয়েক বৎসরে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প, কাশ্মীরে লেতে হড়কাবান, আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরি, জাপানে সুনামী ভূমিকম্প মহাপ্রলয়, হাইতিতে ভূমিকম্প এইভাবেই একটার পর একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে পৃথিবীর বুকে বিগত কয়েক বৎসরে বিশেষ করে ইং- ২০২৫ সালে তা আরও বেশি করে প্রকৃতির খামখেওয়ালী বেড়ে গেছে এর ফলে অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ভূমিক্ষয়, ভূমিধ্বস, জলচ্ছাস বেড়েই চলেছে এই ভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বৎসরের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে যাবে এবং বহু সংখ্যক লোক ক্ষয় হবে ও প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হবে। আগামী দিনে এর থেকেও ভয়াল ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে পৃথিবীর বুকে এ থেকে রেহাই পাবেনা পৃথিবীর প্রাণীকুল। প্রকৃতির এই রকম খামখেয়ালী হওয়ার জন্য গোটা বিশ্বে ১০০ বছর অন্তর একটি করে মহামারীরোগের আকার নিয়েছে যেমনটি হয়েছিল ইং- ১৭২০ প্লেগ, ১৮২০ কলেরা, ১৯২০ স্প্যানিশফু বসন্ত এবং ২০২০তে করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস মহামারী মারণ রোগ যা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। খাদ্যের সঙ্কট হবে, মৃত্যুর মিছিল হবে, এর পেছনে যুক্ত আছে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, পরিবেশ উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ামিং উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা, ইউরোপ, রাশিয়া পরমানু পরীক্ষা, চন্দ্রযান, মঙ্গলযান, বিশ্বযুদ্ধ পরিবেশ উষ্ণায়নে সমস্ত দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে গোটা বিশ্বের মানব সমাজকে, তাই ভাবিয়ে তুলছে পৃথিবী ধ্বংসের আর বেশি বাকী নেই। অন্তিম সময়। তবে একদিনে নয় ধীরে ধীরে হবে পৃথিবী জনমানব শূন্য। ইং ২০১৭ সালটি নাকি সবথেকে উষ্ণতম ২০০১ থেকে ১৭ সালটি পরিবেশের উষ্ণতম সমস্ত দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের। প্যারিসে পরিবেশ চুক্তি থেকে উন্নয়ন শীল দেশগুলি সরে দাঁড়িয়েছে। এ সবের মিলিত ফলশ্রুতিতে শেষের সে দিন নাকি আর মাত্র কয়েক বৎসর। পরিবেশ বদল আর বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ এই ধ্বংসেরও কারণ। এই ধ্বংসের প্রথম শুরু হবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি, ভূমিকম্প, অন্নাভাব মারণরোগ, ধীরে ধীরে পৃথিবীর জীবকুল শেষ হয়ে যাবে। ধ্বংসের পরে আবার নতুন করে সৃষ্টি হবে এই পৃথিবী। ইং-১৯৯২ সালে এক হলিউড ছবিতে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরে থাকা এভারেষ্ট পর্বতের চূড়া বাদে বাকী পৃথিবীর সমস্ত অংশই জলের নীচে চলে গিয়ে ছিল। সমস্ত ভূখণ্ডই সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধুই জল আর জল, স্থল বলে কিছুই ছিল না। 'বর্তমানে পরিবেশ বিদরা বলছেন গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরনে লাগাম টানতে না পারলে কল্পবিজ্ঞানের এই দৃশ্য কোন এক সময়ে বাস্তবের ছবিও হয়ে উঠতে পারে। উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে চলেছে বিশ্ব জুড়ে আবহাওয়ার উপর নজর রাখা একটি সংস্থা তাদের রিপোটে জানিয়েছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্রীণ হাউস গ্যাসগুলি বেড়েই চলেছে বর্তমানে তা কার্যত রেকড মাত্রায় পৌঁচেছে। বর্তমানে পৃথিবীতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা যেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা কয়েক লক্ষ বছর আগে শেষবার দেখা গিয়েছিল। সে সময় পৃথিবীর তাপমাত্রা গড় তাপ মাত্রা থেকে ২-৩ ডিগ্রি বেশি হয়েছিল আর সমুদ্রের জলস্তর ও ১০-২০ মিটার উপরেছিল অর্থাৎ স্থলভাগ আরও কম ছিল বর্তমানে সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। এখন পৃথিবীর উষ্ণতা প্রতি দশকে বৃদ্ধি ১.২° থেকে ১.৫৫° বাড়ায় সমুদ্রের তলদেশে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে নিম্নচাপের মাধ্যমে আয়লা, ফনি, আমপানের মতো ঝড় বৃষ্টি হয়ে চলেছে তাতে করে জন জীবন বিপন্ন হচ্ছে ঘরবাড়ী প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে কৃষি কার্য ব্যাহত হচ্ছে কৃষি পণ্য নষ্ট হচ্ছে। মুলত এই গ্রীণ হাউস গ্যাস কমাতে না পারলে পৃথিবীকে বাঁচাবার আর কোন উপায় নেই। এই' ভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীর যেখানে প্রাণীকুল বসবাস করে তাদের যা ক্ষতি হবে তা আর পূরণ করা সম্ভব হবে না। এখন পরিস্থিতি যে জায়গায় গিয়ে পৌঁচেছে সেখানে প্রতিকারের খুব কম পথই খোলা আছে। এর জন্য পৃথিবীতে বসবাস কারী প্রাণীকুলের মধ্যে মানব জাতিই দায়ী বেশি। জড় জাগতিক উৎশৃঙ্খল জীবন যাপনই মানব কুলকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। জাগতিক ক্ষেত্রে মানুষ নিজ কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করে, এখন মানুষ আসুরিক শক্তির দ্বারা শক্তিমান হয়ে বিশ্বকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে তাই আসুরিক শক্তি প্রকৃতির নিয়মেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে তাই হতে চলেছে। ইং- ২০২৫ সে গ্রীন হাউস গ্যাসের কারণেই পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ। এর ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বেড়েই চলেছে অত্যাধিক মাত্রায়। এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে এখনই আমাদেরকে সচেষ্ট হতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ অযথা নষ্ট না করে প্রকৃতিকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই কঠিন পরিস্থিতির হাত থেকে রেহাই পেতে পারি কিন্তু বিষয়টি অপ্রতিরোধ্য।
লেখক পরিচিতি
হরি ওঁ তৎসৎ , ভক্তিমান রবীন্দ্রনাথ ভক্তিশাস্ত্রী, মনসুকা, পশ্চিম মেদিনীপুর , ভক্তকথা- ৯৬৪১৩১০৬৩৬
