শ্যামল রং, ০৫ অক্টোবর, ২০২৫: একটানা ভারী বর্ষণের জেরে শিলাবতী ও রূপনারায়ণ সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। দিনের শুরুতেই শিলাবতী নদীর বাঁকা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে জলস্তর বিপদসীমা (Danger Level) অতিক্রম করে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গভীর রাত পর্যন্ত জলস্তর সেখানে স্থিতিশীল থাকলেও তা চরম বিপদসীমার (Extreme Danger Level) খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাঁকা কেন্দ্রে শিলাবতী নদীর বিপদসীমার মাত্রা হল 14.47 মিটার। ৪ঠা অক্টোবর, সকাল ৯টা নাগাদ এই জলস্তর বেড়ে 14.50 মিটারে পৌঁছায়। এরপর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে রাত ৮টায় 15.00 মিটারে পৌঁছায়। রাত ১১টায় (২৩:০০ ঘটিকা) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জলস্তর ওই একই জায়গায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এই স্থিতিশীল জলস্তর চরম বিপদসীমা (15.08 মিটার) থেকে মাত্র 8 সেন্টিমিটার নিচে থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে। এদিকে, শিলাবতীর অন্যান্য স্টেশন, যেমন গড়ঘাটে জলস্তর বেড়ে রাত ১১টায় 6.68 মিটার এবং বন্দরে 5.25 মিটারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, রূপনারায়ণ এবং পুরানো কংসাবতী (Old Cossye) নদীর জলও ক্রমাগত বাড়ছে। রাত ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রূপনারায়ণের রানিচক স্টেশনে জলস্তর বেড়ে 4.65 মিটার এবং গোপীগঞ্জ স্টেশনে 3.20 মিটারে পৌঁছেছে। পুরানো কংসাবতী নদীর জলস্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে 7.00 মিটারে পৌঁছেছে, যা সকালের থেকে প্রায় এক মিটার বেশি। তবে এই নদীগুলির জলস্তর এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘন্টায় 67.80 মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মরশুমে এখন পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 1920 মিলিমিটার। এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিই নদীর জলস্তর বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিলাবতীর জলস্তর বিপদসীমার উপরে স্থিতিশীল থাকায় এবং অন্যান্য নদীগুলির জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্লাবনের আশঙ্কা করছেন নদী পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় সমস্ত রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
